আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা চিকিৎসা—যেকোনো প্রয়োজনে বিদেশ গমনের প্রথম ও প্রধান আইনি শর্ত হলো একটি বৈধ পাসপোর্ট। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বাধুনিক বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট (e-Passport) প্রদান করছে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পাসপোর্টের নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ই-গেটের মাধ্যমে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ঘরে বসেই অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন, ফি প্রদান এবং শিডিউল বুকিং করা অত্যন্ত সহজ হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের কভারে একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক চিপ (Microchip) এবং অদৃশ্য অ্যান্টেনা এমবেড করা থাকে, যেখানে পাসপোর্টধারীর বায়োমেট্রিক তথ্য (১০ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ এবং মুখের ডিজিটাল ছবি) সুরক্ষিত থাকে। এটি সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতিরোধী। আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC)-এর তথ্যের সাথে হুবহু মিল রাখা বাধ্যতামূলক।
১. বাংলাদেশে প্রচলিত পাসপোর্টের প্রকারভেদ
বাংলাদেশ সরকার মূলত তিন ধরনের পাসপোর্ট ইস্যু করে থাকে, যার কভারের রঙ ও প্রাপ্যতা ভিন্ন:
- ১. সাধারণ পাসপোর্ট (Ordinary Passport - সবুজ কভার): বাংলাদেশের সকল সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইস্যু করা হয়।
- ২. সরকারি বা অফিসিয়াল পাসপোর্ট (Official Passport - নীল কভার): সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সরকারি কাজের প্রয়োজনে বিদেশ গমনের জন্য ইস্যু করা হয়।
- ৩. কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport - লাল কভার): রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়।
২. ২০২৬ সালের হালনাগাদ ই-পাসপোর্ট ফি কাঠামো (১৫% ভ্যাটসহ)
ই-পাসপোর্টের ফি পৃষ্ঠার সংখ্যা (৪৮ পৃষ্ঠা বা ৬৪ পৃষ্ঠা), মেয়াদের দৈর্ঘ্য (৫ বছর বা ১০ বছর) এবং ডেলিভারির গতির (নিয়মিত, জরুরি ও অতি জরুরি) ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সকল সরকারি ফির সাথে ১৫% ভ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিচের সারণিতে ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ ফি কাঠামো প্রদর্শিত হলো:
| পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | ডেলিভারির ধরন | ডেলিভারির সম্ভাব্য সময়সীমা | মূল ফি (টাকা) | ১৫% ভ্যাট (টাকা) | সর্বমোট প্রদেয় ফি (টাকা) |
|---|---|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা (৫ বছর মেয়াদ) | নিয়মিত (Regular) | ১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস | ৩,৫০০ | ৫২৫ | ৪,০২৫ টাকা |
| জরুরি (Express) | ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস | ৫,৫০০ | ৮২৫ | ৬,৩২৫ টাকা | |
| অতি জরুরি (Super Express) | ২ কর্মদিবস | ৭,৫০০ | ১,১২৫ | ৮,৬২৫ টাকা | |
| ৪৮ পৃষ্ঠা (১০ বছর মেয়াদ) | নিয়মিত (Regular) | ১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস | ৫,০০০ | ৭৫০ | ৫,৭৫০ টাকা |
| জরুরি (Express) | ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস | ৭,০০০ | ১,০৫০ | ৮,০৫০ টাকা | |
| অতি জরুরি (Super Express) | ২ কর্মদিবস | ৯,০০০ | ১,৩৫০ | ১০,৩৫০ টাকা | |
| ৬৪ পৃষ্ঠা (৫ বছর মেয়াদ) | নিয়মিত (Regular) | ১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস | ৫,৫০০ | ৮২৫ | ৬,৩২৫ টাকা |
| জরুরি (Express) | ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস | ৭,৫০০ | ১,১২৫ | ৮,৬২৫ টাকা | |
| অতি জরুরি (Super Express) | ২ কর্মদিবস | ১০,৫০০ | ১,৫৭৫ | ১২,০৭৫ টাকা | |
| ৬৪ পৃষ্ঠা (১০ বছর মেয়াদ) | নিয়মিত (Regular) | ১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস | ৭,০০০ | ১,০৫০ | ৮,০৫০ টাকা |
| জরুরি (Express) | ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস | ৯,০০০ | ১,৩৫০ | ১০,৩৫০ টাকা | |
| অতি জরুরি (Super Express) | ২ কর্মদিবস | ১২,০০০ | ১,৮০০ | ১৩,৮০০ টাকা |
সরকারি পাসপোর্ট বিধিমালা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তারা ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সকল নাগরিক তাদের পছন্দ অনুযায়ী ৫ বা ১০ বছর মেয়াদী যে কোনো পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন।
সর্বমোট পাসপোর্ট ফি = মূল সরকারি ডেলিভারি ফি + (মূল ফি × ১৫% সরকারি ভ্যাট)
৩. অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের ধাপে ধাপে নিয়ম
সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.epassport.gov.bd-এ গিয়ে নিচের ৮টি সহজ ধাপে আপনার পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করুন:
- ধাপ ১ (জেলা ও থানা নির্বাচন): ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "Apply Online"-এ ক্লিক করুন এবং আপনার বর্তমান বসবাসের জেলা ও সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করুন। এটি আপনার পাসপোর্ট আবেদন কোন আঞ্চলিক অফিসে প্রক্রিয়াকৃত হবে তা নির্ধারণ করে।
- ধাপ ২ (অ্যাকাউন্ট তৈরি ও সক্রিয়করণ): আপনার ব্যক্তিগত সচল ইমেইল ঠিকানা ও একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার ইনবক্সে একটি সক্রিয়করণ লিংক পাঠানো হবে, সেখানে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করুন।
- ধাপ ৩ (ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ): আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী হুবহু নাম (ইংরেজি ও বাংলায়), লিঙ্গ, পেশা, ধর্ম এবং রক্তের গ্রুপ নির্বাচন করুন। নামের বানানে কোনো প্রকার অক্ষরের অমিল রাখা যাবে না।
- ধাপ ৪ (পিতা ও মাতার তথ্য): পিতা ও মাতার নাম এবং তাদের এনআইডি নম্বর থাকলে তা সঠিকভাবে ইনপুট করুন। বিবাহিত হলে বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করে স্বামী/স্ত্রীর তথ্য প্রদান করুন।
- ধাপ ৫ (ঠিকানা পূরণ): স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা সতর্কতার সাথে পূরণ করুন। মনে রাখবেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সাধারণত স্থায়ী ঠিকানায় বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উভয় ঠিকানায় অনুষ্ঠিত হয়।
- ধাপ ৬ (আইডি ডকুমেন্ট তথ্য): প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে NID নম্বর এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRIS ভেরিফাইড) নম্বর নির্বাচন করে লিখুন। পূর্বে পাসপোর্ট থাকলে তার বিবরণ প্রদান করুন।
- ধাপ ৭ (পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও ডেলিভারি মোড): আপনার ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪) এবং মেয়াদ নির্বাচন করুন। এরপর নিয়মিত, জরুরি বা অতি জরুরি ডেলিভারি অপশন বেছে নিন।
- ধাপ ৮ (অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল ও সাবমিশন): সকল তথ্য রিভিও করে ফাইনাল সাবমিট করুন। এরপর বায়োমেট্রিক প্রদানের সুবিধাজনক তারিখ ও সময় স্লট বুক করে আবেদনপত্রের সারাংশ (Application Summary) ও ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন।
৪. পাসপোর্ট ফি পরিশোধের অনুমোদিত পদ্ধতিসমূহ
ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি পরিশোধ করা এখন অত্যন্ত সহজ ও ক্যাশলেস:
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS): বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), রকেট (Rocket), উপায় ইত্যাদির পে-বিল অপশন থেকে "E-Passport Fee" সিলেক্ট করে সরাসরি আবেদন রেফারেন্স নম্বর বা চালান নম্বর দিয়ে ঘরে বসেই পেমেন্ট করা যায়।
- সরকারি এ-চালান (A-Challan) পোর্টাল: সোনালী ব্যাংকের সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা বাংলাদেশ সরকারের অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংকের কার্ড, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং দিয়ে পরিশোধ করা সম্ভব।
- ব্যাংক কাউন্টার পেমেন্ট: সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংকের যেকোনো অনুমোদিত শাখায় সরাসরি চালানের মাধ্যমে নগদ টাকা জমা দেওয়া যায়।
৫. বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি
অনলাইন থেকে ডাউনলোডকৃত মূল আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল সামারি পেজ।
ব্যাংক চালান বা ফি রসিদ
অনলাইনে বা ব্যাংকে পরিশোধিত পাসপোর্ট ফির মূল চালান স্লিপ বা ডিজিটাল পেমেন্ট কনফার্মেশন প্রিন্ট।
এনআইডি বা জন্মসনদ
আবেদনকারীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ১ সেট ফটোকপি (১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্মসনদ ও পিতা-মাতার এনআইডি)।
পূর্বের পাসপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মূল পাসপোর্ট এবং এর তথ্য পাতার ১ কপি ফটোকপি সাথে আনতে হবে।
৬. পাসপোর্ট অফিসে করণীয় ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া
নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে সকাল সকাল পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ। পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হয়:
- কাগজপত্র যাচাই (Data Verification): সহকারী পরিচালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার প্রিন্ট কপি ও মূল সনদের তথ্য মিলিয়ে দেখবেন এবং ফাইলে সিল ও স্বাক্ষর প্রদান করবেন।
- বায়োমেট্রিক বুথ: বায়োমেট্রিক বুথে আপনার ডিজিটাল রঙিন ছবি তোলা হবে (চোখে সানগ্লাস বা রঙিন লেন্স পরিহার করুন, কপাল ও কান দৃশ্যমান হতে হবে)। এরপর ইলেকট্রনিক প্যাডে দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ এবং অপটিক্যাল স্ক্যানারে চোখের আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন হবে।
- ডিজিটাল স্বাক্ষর: ইলেকট্রনিক প্যাডে আপনার অফিসিয়াল স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে যা সরাসরি পাসপোর্টে মুদ্রিত হবে।
- ডেলিভারি স্লিপ (Delivery Slip) সংগ্রহ: প্রক্রিয়া শেষ হলে অফিসার আপনাকে একটি ডিজিটাল ডেলিভারি স্লিপ প্রদান করবেন। এই স্লিপে আপনার পাসপোর্টের ডেলিভারি ডেট এবং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করার জন্য Application ID উল্লেখ থাকে।
৭. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও পাসপোর্ট নবায়নের নিয়মাবলী
নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) থেকে নাগরিকের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার সত্যতা নিশ্চিত করতে ভেরিফিকেশন পরিচালনা করা হয়। সাধারণত পুলিশ অফিসার আবেদনকারীর সাথে যোগাযোগ করে এনআইডি, বিদ্যুৎ বিল বা নাগরিক সনদ দেখতে চান। ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পজিটিভ জমা হওয়ার পর পাসপোর্ট প্রিন্টিং শাখায় চলে যায়।
পাসপোর্ট নবায়ন বা MRP থেকে e-Passport: আপনার যদি পূর্বেই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) থেকে থাকে এবং ব্যক্তিগত তথ্যে (নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ) কোনো পরিবর্তন না থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না। দ্রুততম সময়ে সরাসরি ই-পাসপোর্ট প্রিন্ট সম্পন্ন হয়।
আপনার পাসপোর্টের সরকারি ফি কত আসবে? এখনই নির্ভুল হিসাব জানুন!
পৃষ্ঠার সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারি ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে ভ্যাটসহ সঠিক সরকারি টাকার পরিমাণ মাত্র কয়েক সেকেন্ডে জেনে নিন আমাদের ই-পাসপোর্ট ফি ক্যালকুলেটরে। কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই নিশ্চিন্ত থাকুন।
পাসপোর্ট ফি ক্যালকুলেটরে হিসাব দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ই-পাসপোর্ট করতে কি সত্যায়নের (Attestation) কোনো প্রয়োজন আছে?
না। ই-পাসপোর্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কোনো প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা আবেদনপত্র বা ছবি সত্যায়নের কোনো প্রয়োজন নেই।
পাসপোর্ট আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস কীভাবে জানব?
পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইট www.epassport.gov.bd-এ "Check Status" মেন্যুতে গিয়ে আপনার ডেলিভারি স্লিপে থাকা Application ID এবং জন্মতারিখ ইনপুট দিয়ে রিয়েল-টাইম অগ্রগতি জানা যায়।
জরুরি (Express) ও অতি জরুরি (Super Express) ডেলিভারির মধ্যে পার্থক্য কী?
জরুরি ডেলিভারিতে ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। আর অতি জরুরি (Super Express) ডেলিভারিতে মাত্র ২ কর্মদিবসে পাসপোর্ট পাওয়া যায়, তবে এর জন্য পূর্বে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বা বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
এনআইডি এবং জন্মনিবন্ধন সনদের মধ্যে তথ্যে অমিল থাকলে কী করব?
যদি আপনার এনআইডি থাকে, তবে এনআইডি অনুযায়ীই পাসপোর্টের আবেদন করা বাধ্যতামূলক। জন্মসনদ কেবল ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়নি।
পাসপোর্টে ছবি তোলার সময় ড্রেস কোড কী হওয়া উচিত?
যেহেতু পাসপোর্টের ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হয়, তাই হালকা বা সাদা রঙের পোশাক এড়িয়ে গাঢ় রঙের পোশাক পরিধান করা উত্তম। কোনো ধর্মীয় হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরা থাকলে মুখমণ্ডল, কপাল ও থুতনি সম্পূর্ণ স্পষ্ট থাকতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাসপোর্ট করতে কী অতিরিক্ত কাগজ লাগে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্ব স্ব বিভাগীয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) অথবা সরকারি আদেশের (GO) মূল কপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হয়।
মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কতদিন আগে পাসপোর্ট রিনিউ করা যায়?
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস থেকে ১ বছর পূর্বে যেকোনো সময় রিনিউ করা যায়। অধিকাংশ দেশ ভ্রমণের শর্ত হিসেবে পাসপোর্টের ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ অবশিষ্ট থাকা বাধ্যতামূলক করে।
পাসপোর্ট হারানোর ক্ষেত্রে করণীয় কী?
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সর্বপ্রথম নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। এরপর জিডির মূল কপি ও পূর্বের পাসপোর্টের ফটোকপিসহ 'হারানো পাসপোর্ট' ক্যাটাগরিতে নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।